Sunday, January 1, 2012

GP A 5

জিপিএ-৫’র জন্য শিশুদের ফার্মের মুরগি করা হচ্ছে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

x

ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
Decrease font Enlarge font
ঢাকা: বর্তমানে অভিভাবকরা শিশুদের জিপিএ-৫’র জন্য ফার্মের মুরগি বানিয়ে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

শুক্রবার (০৫ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে চট্টগ্রামের তির্যক নাট্যদলের প্রতিষ্ঠার ৪০ বছরপূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমাজে যারা প্রতিষ্ঠিত তারা কেউ জিপিএ-৫ পেয়ে প্রতিষ্ঠিত হননি। তবে অভিভাবকদের ধারণা জিপিএ-৫ না পেলে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় না। আর তাই তো শিশুদের জিপিএ-৫’র জন্য ফার্মের মুরগি বানিয়ে পড়াশোনা করানো হচ্ছে। এতে তারা সৃজনশীলতার সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারছে না।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মঞ্চ নাটকে দর্শক কমার জন্য যানজট এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রবণতাই বেশি দায়ী।

শিশুদের সঙ্গে জিপিএ-৫ নির্যাতন করা হচ্ছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, এখন শিশুদের নাচ-গান করতে দেওয়া হয় না। মুক্ত চিন্তা করতে দেওয়া হয় না। দেশ ও মানুষ নিয়ে ভাবতে দেওয়া হয় না। এ কারণে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তির্যক নাট্যদলের সদস্য ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ২০০৬ ঘণ্টা, জুন ০৬, ২০১৫
এফবি/আইএ
https://www.blogger.com/blogger.g?blogID=1571853868559168248#editor/target=post;postID=8252343395303014433

মায়ের ক্ষমায় বাঁচল ছেলের খুনির প্রাণ
অনলাইন ডেস্ক | আপডেট: ১৩:৪৭, এপ্রিল ১৭, ২০১৪
ফাঁসির বেদিতে গিয়ে নিজের ছেলে আবদুল্লাহর হত্যাকারী বেলালকে চড় মারছেন আবদুল্লাহর মা।      ছবি: দ্য গার্ডিয়ানচোখ বেঁধে তাঁকে দাঁড় করানো হয়েছে ফাঁসির বেদিতে, গলায় গলানো হয়েছে ফাঁসির দড়ি। মা আর সইতে পারলেন না, দ্রুত গিয়ে ছেলেকে চড় মেরে ভেঙে পড়লেন কান্নায়, বাবা খুলে দিলেন ফাঁসির দড়ি। প্রাণে বেঁচে গেলেন ২৭ বছরের বেলাল। সামনে অপেক্ষমাণ জনতার মধ্যে যেন ছড়িয়ে গেল মায়ের বুকে জমে থাকা বোবাকান্নার ঢেউ। এক মা এভাবেই বাঁচালেন তাঁর নিজের ছেলের খুনিকে। দেশের আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে ফাঁসি কার্যকরের সময় সম্প্রতি বিরল এই ক্ষমাশীলতার ঘটনা ঘটেছে ইরানে। দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
 ফাঁসির বেদিতে দাঁড়ানো অবস্থায় বেলালের গলা থেকে ফাঁসির দড়ি খুলে দিচ্ছেন আবদুল্লাহর বাবা-মা। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
সাত বছর আগে ২০ বছর বয়সী বেলাল তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে ছুরির আঘাতে কেড়ে নিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী আবদুল্লাহ হোসেনজাদেহর প্রাণ। ইরানের মাজানদারান প্রদেশের ছোট্ট শহর রোয়ানে এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। পুলিশের হাতে ধরা পড়েন বেলাল। বিচার শুরু হয় তাঁর। অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় ফাঁসির রায় হয় তাঁর। দেশের আইন অনুযায়ী ফাঁসি হবে প্রকাশ্য এবং ফাঁসি কার্যকরের ঘটনায় অংশ নিতে হবে নিহতের পরিবারকেও।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বেলালকে চোখ বাঁধা অবস্থায় গলায় ফাঁসির দড়ি পরানোর পর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আবদুল্লাহ পরিবারের কাউকে গিয়ে তাঁর পায়ের নিচ থেকে চেয়ারটা সরিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকের তোলা ছবি ও বর্ণনায় দেখা যায়, ঠিক এ সময় ফাঁসি-কাষ্ঠের দিকে এগিয়ে যান নিহত আবদুল্লাহর মা। তিনি গিয়ে ছেলের খুনি বেলালকে একটা চড় মেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আর পেছনে দাঁড়ানো আবদুল্লাহর বাবা ছেলের খুনির গলা থেকে খুলে নেন ফাঁসির দড়ি।
 একজনের ছেলে খুন করেছেন আরেকজনের ছেলেকে। তবু পরস্পরকে জড়িয়ে কাঁদছেন তাঁরা। এক মা কাঁদলেন ছেলে হারানোর বেদনায়, আরেক মা কাঁদলেন ছেলের প্রাণ বেঁচে যাওয়ায়। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
ছেলের খুনিকে ক্ষমা করে নিহত আবদুল্লাহর মা যখন নেমে আসছেন ফাঁসির বেদি থেকে, তখন বেলালের মা এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন তাঁকে। এক মা কাঁদলেন ছেলে হারানোর বেদনায়, আরেক মা কাঁদলেন ছেলের প্রাণ বেঁচে যাওয়ায়। কিন্তু পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে এই দুই মায়ের কান্না কি বুঝতে পেরেছে সবাই! একজন মা কোন বোধে প্রাণের কোন তাড়নায় নিজের ছেলের খুনিকেও ক্ষমা করে দিতে পারেন, সেই প্রশ্নের উত্তর না মিললেও দুই মায়ের কান্না একটা ঢেউয়ের মতোই ছড়িয়ে পড়েছিল ফাঁসি দেখতে আসা শত মানুষের মধ্যে।